সেগুলি তাহাদিগকে বিনামূল্যেই দেওয়া হইতে লাগিল।
গেীঁসাইঞ্জের লোকের সঙ্গে নন্দীপুরের লোকের পথে-ঘাটে দেখা হতেই উভয় গ্রামের মাষ্টার সম্বন্ধে আলোচনা হইত। গেীঁসাইগঞ্জ বলিত বর্ধমানের মাষ্টার, ও জানেই বা কি, পড়াবেই বা কি? নন্দীপুর বলিত হলই বা আাদের মাষ্টারের বর্ধমানে বাড়ি, তিনিও কলকাতাতেই লেখা পড়া শিখেছেন। ওরা যখন পড়তেন তখন কি বর্ধমানে ইংরেজী ই্কুল ছিল?
গেীঁসাইগঞ্জ একটি কথা শুনিয়া উদ্বিগ্ন হইায় উঠিল। নন্দীপুরের মাষ্টার নাকি বলিয়াছেন, ঐ বেটা বুঝি ওদের মাষ্টার হয়ে এসেছে, তা এদিন জান তাম না, ওটাত মহা মূর্খ। ছেলেবেলায় কলকাতায় আমরা এক-কেলাসে পড়তাম কি না। আমরা যখন সেকেন বুক পড়ি সেই সময় ও ইস্কুল ছেড়ে দেয় তারপর ও আর ইংরেজী পড়েনি। বড় বাজারে এ মহাজনের আড়তে খাতা লিখত , মাইনে ছিল সাত টাকা। গেীঁসাইগঞ্জবাসী ব্রজ মাষ্টারকে আসিয়া জিঞ্জাস করিল, এ কি শুনছি?
ব্রজ মাষ্টার প্রশ্ন শুনিয়া হসিয়া উঠিলেন, বলিলেন এ কেই বলে কলিকাল। সেকেন বুক পড়ার সময়ে আমি ইস্কুল ছেড়ে দিয়েছিলাম, না কি ওই ছেড়ে দিয়েছিল? মাষ্টার ওকে একটা 'কোরশেন' জিঞ্জাস করলে, ও এনসার করতে পারলে না। আমায় জিঞ্জাস করতেই আমি বললাম। মাষ্টার আমায় বলল, দাও ওর কান মলে। আমি কান মলে দিতেই ও মুখ চোখ রাগে রাঙ্গা হয়ে গেল। ও বলতে লাগল, আমি হলাম বামুনের ছেলে, ও কায়েত হয়ে কিনা আমার কানে হাত দেয়। সেই অপমানে ও-ই-ত ইস্কুল ছেড়ে দিল।
উভয় মাষ্টারের পরস্পরের প্রতি এই তীব্র অপবাদ-প্রয়োগের ফল.......................................(চলবে)
Friday, March 12, 2010
Subscribe to:
Post Comments (Atom)


No comments:
Post a Comment