Monday, March 8, 2010

মাস্টার মহাশয় (১ম অংশের পর)

রামাচরন দুই চক্ষু কপালে তুলিয়া হাঁপাইতে হাঁপাইতে বলিল, কি হয়েছে জিঞ্জাস করছেন দত্তজা, কি হতে বাকী আছে ? হায় হায় হায় কার্তিক মাসে যখন আমার জ্বরবিকার হয়েছিল, তখনই আমি গেলাম না কেন? এই দেখবার জন্য কি আমায় বাঁচিয়ে রেখেছিল, হা-রে বিধাতা, তোর পোড়া কপাল।

শ্যামাপদ ও কেনারাম ঘোর দুশ্চিন্তায় রামচরণের পানে চাহিয়া রহিল। দত্তজা বলিলেন, কি হয়েছে, কি হয়েছে? সব কথা খুলে বল। এখন আসছ কোথা থেকে?

দীর্ঘ নিঃশ্বাস-জড়িত স্বরে রামচরণ উত্তর করিল, নন্দীপুর থেকে। হায় হায় শেষ পর্যন্ত নন্দীপুরের কাছে মাথা হেট হয়ে গেল। হা-রে কপাল। বলিয়া রামচরণ সজোরে নিজ ললাটে করাঘাত করিল।

দত্তজা জিঞ্জাস করিলেন, কেন কেন? নন্দীওয়ালারা কি করেছে?

বলছি। বলার জন্যই এসেছি। এই রোদ্দুরে মশাই এক কোষ পথ ছুটতে ছুটতে এসেছি। গলাটা শুকিয়ে গেছে, মুখ দিয়ে কথা বেরুচ্ছে না। এক ঘটি জল-

দত্তজার আদেশে অবিলম্বে এক ঘড়া জল এবং একটি ঘটি আসিল। রামচরণ উঠিয়া রোয়াকের প্রান্তে বসিয়া, সেই জলে হাত মুখ পা ধুইয়া ফেলিল, কিঞ্চিৎ পানও করিল। তার পর হাত মুছিতে মুছিতে নিকটে আসিয়া, গম্ভির বিষাদে মাথাটি বাঁকাইয়া রহিল।

দত্তজা বলিলেন, এবার বল কি হয়েছে, আর দগ্ধে মেরো না বাপু !

রামচরন বলিল, কি হয়েছে। যা হবার নয়, তাই হয়েছে । বড় বড় শহরে যা হয়না, নন্দীপুরে তাই হয়েছে। এসব পাড়াগাঁয়ে কেউ কখনও স্বপ্নেও ভাবেনি, তাই হয়েছে। তারা ইস্কুল বসিয়েছে। আরে ছাই আমি কি জানতাম আগে? আজ না শুনলাম-ইঞ্জিরি পড়ার পাঠশালাকে ইস্কুল বলে।

দত্তজা বলিলেন, ওঃ ইস্কুল খুলেছে বুঝি? -তা মাস্টার কোথা থেকে এনেছে, কিছু শুনলে?

সব খবরই নিয়ে এসেছি। বর্ধমান থেকে এনেছে। বামুনের ছেলে-হারান চক্রবর্তী। পনের টাকা মাইনে, বাসা, খোরাক লাগবেনা। সব খবরই নিয়ে এসেছি।

বাহিরে এসময় একটা কোলাহল শুনাগেল। পরক্ষনেই.........................(চলবে)

No comments:

Post a Comment