Tuesday, March 9, 2010

মাষ্টার মহাশয় (২য় অংশের পর)

দেখাগেল পিল পিল করিয়া লোক সদর দরজা দিয়া প্রবেশ করিতেছে। রামচরণ পথে আসিতে আসিতে , নন্দীপুরের হস্তে গেীঁসাইগঞ্জের এই অভূতপূর্ব পরাভব-সংবাদ প্রচার করিয়া আসিয়াছিল। সকলেই চিৎকার করিয়া নানা ছন্দে বলিত লাগিল, এ কি সর্বনাশ হল। নন্দীপুরের হাতে এই অপমান। আমাদে ইস্কুল খোলবার কি উপায় হবে?



হীরু দত্ত সেই রোয়াকের বারান্দায় দাঁড়াইয়া বলিতে লাগিলেন।

ভাই সব! তোমর কি মনে করেছ তিন পুরুষের পর আজ গেীঁসাইগঞ্ঝ নন্দীপুরের কাছে হটে যাবে? কখনই না এদেহে প্রাণ থাকতে নয়। আমরাও ইস্কুল খুলবো। ওরা বা কি ইস্কুল খুলেছে, আমরা তার চতুর্গুন ভাল ইস্কুল খুলবো। আমি কলিকাতা গিয়ে ওদের চেয়ে ভাল মাষ্টার নিয়ে আসব। ওরা পনের টাকা দিয়ে মাষ্টার এনেছে, আমরা পঁচিশ টাকা মাইে দেব। আজ থেকে এক হপ্তার মধ্যে, আমরা এই চিগুীমন্ডপে ইস্কুল বসাবো বসবো বসাবো- তিন সত্য করলাম। এখন যাও, তোমরা বাড়ি যাও, স্নানাহার করগে।



জয় গেীঁসাইঞ্জের জয়। জয় হীরু দত্তের জয়। সোল্লাসে সেই জনতা প্রস্তান করিল।



মাষ্টার মহাশয়ের নাম ব্রজগোপাল মিত্র । বয়স ত্রিশ বছর, খর্বাকার, কৃশকার ব্যক্তি বড় মিষ্টভাষী। ইরেজীটা তাহার এতই বেশি অভ্যাস্ত হইয়া পরিয়া ছিল যে, লোকের সঙ্গে আলাপ করিতে করিতে মাঝে-মাঝে ইরেজী কথা মিশাইা ফেলেন। মাষ্টার মহাসয়ের মুখে এই রূপে কথাবার্তা শুনিয়া লোক জন একেবারেই মোহিত হইা গেল।


হীরু দত্তের প্রতিঞ্জা অনুসারে পরদিনই ইস্কুল খুলিল। পনের ষোলটি ছাত্র লইয়া মাষ্টার মহাশয় অধ্যাপনা শুরু করিলেন। কলিকাতা হইতে তিনি প্রচুর পরিমনে সেলেট, পেন্সিল ও মরে সাহেবের 'স্পেলিং বুক' পুস্তক খরিদ করিয়া আনিয়া ছিলেন। ছা্ত্রদের উৎসাহ বর্ধনার্থে সেই......................................(চলবে)

No comments:

Post a Comment