Sunday, March 7, 2010

মাষ্টার মহাশয়

। (প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়)

কিঞ্চিতাধিক পঞ্চাশ বৎসর পূর্বে, শহর হইতে ষোল ক্রোশ দূরে দামোদর নদের অপর পারে নন্দীপুর ও গেীঁসাইগঞ্জ নামক পাশাপাশি দুইটি বর্ধিঞ্চু গ্রাম ছিল। উভয় গ্রামের সীমারেখার উপর একটি প্রাচীন সুবৃহৎ বটবৃক্ষ ছিল। এখন সে গ্রাম দু'খানিও নাই, বটবৃক্ষটিও অদৃশ্য-দামোদরের বন্যা সে সমস্ত ভাসাইয়া লইয়া গিয়েছে।

ফাল্গুন মাস, এক প্রহর বেলা হইয়াছে। গেীঁসাইগঞ্জরে মাতব্বর প্রজা এবং গ্রামের অভিভাবক-স্তানীয় কায়স্ত-সন্তান শ্রীযুক্ত হীরলাল দাস মহাশয় হুঁকা হাতে করিয়া ধুমপান করিতেছিলেন। প্রতিবেশী শ্যামাপদ মুখুয্যে ও কেনারাম মল্লিক (ইহারাও বড় প্রজা) নিকটে বসিয়া এ বৎসর চৈত্রমাসে বারোয়ারী অন্নপূর্ণা পূজা কিরূপভাবে নির্বাহ কারিতে হইবে তাহারই পরামর্শ করিতেছিলেন। পাশ্ববর্তী নন্দীগ্রামেও প্রতি বৎসর চাঁদা করিয়া ধূমধামের সহিত অন্নর্পূণাপূজা হইয়া থাকে। গেীঁসাইগঞ্জের বাসিগনের একবাক্যে ইহাই মত যে, তিন পুরুষ ধরিয়া গেীঁসইগঞ্জ কোন বিষয়েই নন্দীপুরের নিকট হটে নাই- এবং আজিও হটিবে না।

আগামী বারোয়ারী পূজা সম্বন্ধে যখন গ্রামস্ত তিনজন প্রধান ব্যাক্তির মধ্যে গভীর ও গুঢ় আলোচনা চলিতেছিল সেই সময়ে রামচরণ মন্ডল হাঁপাইতে হাঁপাইতে সেইখানে আসিয়া পেীঁছাইল এবং হাতের লাঠিটা আছড়াইয়া ফেলিয়া দপাস করিয়া মাটিতে বসিয়া পড়িল। তাহার ভাব ভঙ্গি দেখিয়া হীরু দত্ত সভয়ে জিঞ্জাসা করিলেন, কি হে মোড়লের পো, অমন করে বসে পড়লে কেন? কি হয়েছে?...... (চলবে)

No comments:

Post a Comment